মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একজন সাংবাদিকসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্তত পাঁচজন জুলাই যোদ্ধাকে হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় ভুক্তভোগীদের জীবন নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (২২ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে শ্রীমঙ্গল থানায় এ বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন ইসলামী ছাত্র ঐক্য পরিষদ শ্রীমঙ্গলের আহ্বায়ক মো. মুজাহিদ ইসলাম।
জিডি সূত্রে জানা যায়, একই দিন দুপুর ১টা ২৯ মিনিটে ‘নো ক্যাপশন’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে মেসেঞ্জারের মাধ্যমে মো. মুজাহিদ ইসলামের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে ভয়ংকর ভাষায় হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। বার্তায় তাকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকির পাশাপাশি অশালীন ও উসকানিমূলক ভাষা ব্যবহার করা হয়। একই বার্তায় আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে ধারাবাহিকভাবে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
হুমকির শিকারদের মধ্যে রয়েছেন— শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ ও দৈনিক খোলা কাগজ পত্রিকার মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক মো. এহসানুল হক,
ইসলামী ছাত্র ঐক্য পরিষদ শ্রীমঙ্গলের আহ্বায়ক মো. মুজাহিদুল ইসলাম, মৌলভীবাজার জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক নিলয় রশিদ, ইসলামী ছাত্র ঐক্য পরিষদ শ্রীমঙ্গলের আহ্বায়ক নাঈম হাসান, এবং এনসিপির জেলা কমিটির সদস্য হায়দার আলী ও নাঈম।
জুলাই যোদ্ধা মো. মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাকে এবং আমার সহযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে নিয়মিতভাবে ফেসবুক আইডি, মেসেঞ্জার ও কমেন্টের মাধ্যমে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে এবং জীবন চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। অবিলম্বে হুমকিদাতাদের শনাক্ত করে আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করছি।’
সাংবাদিক মো. এহসান বিন মুজাহির বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে পেশাদারিত্বের সঙ্গে সংবাদ প্রকাশ করে আসছি। এসব প্রতিবেদনের কারণেই একটি সংঘবদ্ধ ফ্যাসিবাদী ও অপরাধী চক্র আমাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত হুমকি দিয়ে আসছে। এর আগেও সড়কে আমাকে আক্রমণের চেষ্টা করা হয়েছে এবং মাদকবিরোধী রিপোর্টের জেরে আমার পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। নতুন করে হত্যার হুমকিতে আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
এ ঘটনায় শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল হাই ডন ও সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন আরাফাত রবিন এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘আমাদের প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ সাংবাদিক এহসানুল হককে হত্যার হুমকি দেওয়া গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। অবিলম্বে হুমকিদাতাদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।’
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, ‘একটি সাধারণ ডায়েরি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য, স্ক্রিনশট ও অন্যান্য উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
ঘটনাটি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে হুমকিদাতাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।