চা-বাগান ও পর্যটনসমৃদ্ধ মৌলভীবাজার-৪ (কমলগঞ্জ–শ্রীমঙ্গল) সংসদীয় আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। তফসিল ঘোষণার আগেই বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থী ও মনোনীতরা মাঠে নেমে পড়েছেন। হাটবাজার, গ্রামগঞ্জ, সামাজিক অনুষ্ঠান ও উঠান বৈঠকে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু আসন্ন নির্বাচন।
এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৮৭ হাজার ৮৮৮ জন। এর মধ্যে নতুন ও তরুণ ভোটারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য, যারা এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তরুণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও স্বচ্ছ নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
শ্রীমঙ্গলের নতুন ভোটাররা বলছেন, “আমরা এমন জনপ্রতিনিধি চাই, যিনি এলাকার বাস্তব সমস্যা বোঝেন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করবেন। শুধু রাজনীতি নয়, উন্নয়ন দেখতে চাই।”
পর্যটননির্ভর এই অঞ্চলে ভোটারদের বড় একটি প্রত্যাশা পর্যটন শিল্পের টেকসই উন্নয়ন। স্থানীয়দের মতে, পর্যটন অবকাঠামো আধুনিকীকরণ, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করা এবং পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং এলাকার অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।
রাজনৈতিকভাবে এই আসনে একসময় আওয়ামী লীগের আধিপত্য থাকলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ একাধিক দল সক্রিয়। বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরী। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন, যা তাকে পরিচিত একটি নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
বিএনপির পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জাতীয় পার্টি, বাসদ, সিপিবি ও অন্যান্য দলের প্রার্থীরাও প্রচার চালাচ্ছেন। প্রার্থীরা বিয়েশাদি, জানাজা ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের পাশাপাশি সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এবারের নির্বাচন হবে বহুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। কোনো একক দল বা প্রার্থীর প্রতি এখনো নিশ্চিত ঝোঁক না থাকলেও ভোটাররা ইতোমধ্যে নিজেদের মতো করে হিসাব কষতে শুরু করেছেন।
সব মিলিয়ে মৌলভীবাজার-৪ আসনে নির্বাচন ঘিরে যে আলোচনা ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তা স্পষ্ট করে দিচ্ছে—ভোটাররা এবার নেতৃত্বের পাশাপাশি বাস্তব উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে চান।