মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামে মুন্ডা জনগোষ্ঠীকে সংগঠিত করা কিংবদন্তি সমাজ সংস্কারক বিরসা মুন্ডার ১৫০তম জন্মজয়ন্তী নানা আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে। শনিবার বিকেলে মুন্সিবাজার ইউনিয়নের করিমপুর চা বাগানের সরস্বতী মন্দির প্রাঙ্গণে মুন্ডা সমাজকল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক কমিটির সভাপতি বিপ্লব মুন্ডা এবং সঞ্চালনা করেন অবলেক মুন্ডা। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মনিপুরী ললিতকলা একাডেমির উপপরিচালক প্রভাস সিংহ। তিনি বলেন, বিরসা মুন্ডার সংগ্রাম শুধু একটি জনগোষ্ঠীর নয়, বরং বিশ্বের সকল নিপীড়িত মানুষের মুক্তি আন্দোলনের প্রতীক।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম মৌলভীবাজারের সাধারণ সম্পাদক জনক দেববর্মা, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সহসভাপতি পংকজ কন্দ, বৃহত্তর সিলেট মুন্ডা সমাজকল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক লক্ষণ মুন্ডা এবং স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য কাজল রায়সহ অন্যান্য অতিথিরা। বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে মুন্ডা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, অধিকার ও মুক্তিযাত্রায় বিরসা মুন্ডার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। মুন্ডা সম্প্রদায়ের শিল্পীরা তাঁদের নিজস্ব ভাষা, পোশাক ও ঐতিহ্যবাহী অভিনয়শৈলীতে নৃত্য ও গান পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। স্থানীয় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনস্থল ছিল উৎসবমুখর।
আয়োজকরা জানান, ভারতের রাঁচি অঞ্চলে জন্ম নেওয়া বিরসা মুন্ডা ছিলেন এক স্বপ্নদ্রষ্টা নেতা ও সমাজ সংস্কারক। ব্রিটিশ শাসনামলে দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে তিনি মুন্ডা জনগোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধ করে ‘মুন্ডা বিদ্রোহ’ পরিচালনা করেন, যা ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাঁর অনুসারীরা তাঁকে শ্রদ্ধাভরে ‘বিরসা ভগবান’ নামে সম্বোধন করতেন।
বক্তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন চা বাগানেও তাঁর জন্মজয়ন্তী উদযাপিত হচ্ছে। আজও বিরসা মুন্ডার আদর্শ ও সংগ্রাম আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অনুপ্রেরণা জোগায়। জন্মজয়ন্তীর এ আয়োজন তরুণ প্রজন্মকে সেই ইতিহাস, সংগ্রাম ও চেতনার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবে।